ওয়ার্ল্ড গ্রেইনস কাউন্সিল (আইজিসি) জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে বিশ্বব্যাপী শস্য উৎপাদন আবারো রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ভুট্টার আবাদযোগ্য জমি ও ফলন বৃদ্ধির সম্ভাবনার কারণে সর্বশেষ এ প্রাক্কলনে সংশোধন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর বিজনেস রেকর্ডার ও ওয়ার্ল্ডগ্রেইনডটকম।
আইজিসির গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘গ্রেইন মার্কেট রিপোর্ট’ অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে বিশ্বব্যাপী শস্য উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ২৪০ কোটি ৪০ লাখ টনে। এর মধ্যে ভুট্টার উৎপাদন আগে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ২ কোটি ৩০ লাখ টন বেড়ে রেকর্ড ১২৯ কোটি ৯০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। এটি গত বছরের রেকর্ড উৎপাদনের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি।
আইজিসির হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫-২৬ মৌসুমে ভুট্টা উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ৪২ কোটি ৩৫ লাখ টনে। আগের দেয়া পূর্বাভাসে এ পরিমাণ ছিল ৩৯ কোটি ৮৯ লাখ টন। এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) দেশটির উৎপাদন পূর্বাভাস বাড়িয়ে রেকর্ড ৪২ কোটি ৫৩ লাখ টনে উন্নীত করে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ও ফলন উভয়ই বাড়তে পারে বলে জানানো হয়।
এদিকে উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনায় শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে (সিবিওটি) ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে ভুট্টার দাম গত চার মাসে প্রায় ১৭ শতাংশ কমেছে।
তবে আইজিসি মনে করছে, বাড়তি সরবরাহের একটি বড় অংশ চাহিদা বাড়ার কারণে ব্যবহার হবে।
এছাড়া গম, জোয়ার ও ওটসের উৎপাদন পূর্বাভাসও কিছুটা বাড়িয়েছে আইজিসি। ২০২৫-২৬ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী গম উৎপাদন রেকর্ড ৮১ কোটি ১০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।
সংস্থাটি জানায়, ২০২৫-২৬ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী শস্যের (গমসহ অন্যান্য দানাদার শস্য) ব্যবহার বেড়ে দাঁড়াতে পারে ২৩৯ কোটি ১০ লাখ টনে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ কোটি ৯০ লাখ টন বেশি। টানা তিন বছর কমে যাওয়ার পর এবার শস্যের সমাপনী মজুদ ১ কোটি ৩০ লাখ টন বাড়তে পারে। আইজিসি বৈশ্বিক সয়াবিন উৎপাদনের পূর্বাভাসও কিছুটা বাড়িয়েছে। এ সময় বৈশ্বিক উৎপাদন দাঁড়াতে পারে রেকর্ড ৪৩ কোটি টনে। এছাড়া ব্যবহার বাড়তে পারে ১ কোটি ৮০ লাখ টন।
এদিকে ভুট্টা ও সয়াবিনের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রভাবে আইজিসির গ্রেইনস অ্যান্ড অয়েলসিডস ইনডেক্স (জিওআই) মাস ভিত্তিতে ১ শতাংশ বেড়েছে। তবে ২০২৪-২৫ মৌসুমের তুলনায় এ সূচক অপরিবর্তিত রয়েছে।